ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়তা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার চীনের ব্যাপক আকারে চীনের বিনিয়োগ আসবে, আশা প্রেস সচিবের নদী ও পানি ব্যবস্থাপনায় বেইজিংয়ের কাছে ‘মাস্টারপ্ল্যান’ চায় ঢাকা ঢাকা-বেইজিংয়ের মধ্যে ৯ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই ডাকাতি বৃদ্ধিতে উদ্বেগ নিরাপত্তা দাবি স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সুনামগঞ্জে বালু উত্তোলন নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ আহত ৬ নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান সংস্কারের কথা বলেও পরে কথা রাখেনি- নাহিদ ঈদে ফিরতি যাত্রায় ৮ এপ্রিলের টিকিট মিলবে আজ মিয়ানমারে দু’দফা শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল বাংলাদেশও পানি সঙ্কটে উত্তরাঞ্চলের কৃষি বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তরে সহায়তা করবে চীনা এক্সিম ব্যাংক ভারত থেকে কেনা হবে আরও ৫০ হাজার টন চাল ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নে তিন স্তরের নিরাপত্তা ২৬ দিনে রেমিট্যান্স এলো প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার ঈদের ছুটি দীর্ঘ হলেও অর্থনীতিতে স্থবিরতা আসবে না-অর্থ উপদেষ্টা মিয়ানমারে সশস্ত্র যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে রোহিঙ্গারা নাড়ির টানে ছুটছে মানুষ রাজধানীতে তীব্র যানজট
* সম্পর্ক গভীর হবে চীন-বাংলাদেশের * গণতন্ত্রের সুষ্ঠু উত্তরণে বান কি মুনের সমর্থন চেয়েছেন ড. ইউনূস

এশিয়ার দেশগুলোর ভাগ্য একে অপরের সাথে জড়িত

  • আপলোড সময় : ২৮-০৩-২০২৫ ১১:২০:৪৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৮-০৩-২০২৫ ১১:২০:৪৭ পূর্বাহ্ন
এশিয়ার দেশগুলোর ভাগ্য একে অপরের সাথে জড়িত
অভিন্ন ভবিষ্যৎ এবং সমৃদ্ধির জন্য এশিয়ার দেশগুলোকে একটি পরিষ্কার রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, পরিবর্তনশীল এই বিশ্বে এশীয় দেশগুলোর ভাগ্য একে অপরের সঙ্গে জড়িত। আমাদের অবশ্যই একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ নির্ধারণ করতে হবে যাতে আমরা যৌথ ভবিষ্যৎ ও যৌথ সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারি। প্রধান উপদেষ্টার দফতরের এক বার্তায় জানানো হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার চীনের হাইনানে আয়োজিত বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া সম্মেলনে দেয়া বক্তৃতায় এই আহ্বান জানান ইউনূস।
তিনি বলেন, আর্থিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে এশিয়াকে অবশ্যই একটি টেকসই অর্থায়ন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আর আঞ্চলিক বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মত প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দিতে হবে। আমাদের দরকার নির্ভরযোগ্য তহবিল, যা আমাদের চ্যালেঞ্জগুলোর সমাধান করবে এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করতে পারবে, বলেন ইউনূস।
সেই সঙ্গে বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের অন্য সব অঞ্চলের তুলনায় অন্তর্ভুক্তির দিক দিয়ে পিছিয়ে আছে এশিয়া। এই দুর্বল যোগাযোগ বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। আমাদের অবশ্যই দ্রুত বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য কাজ করতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এশীয় দেশগুলোকে অবশ্যই সম্পদ সাশ্রয়ী কৃষি উন্নয়নে মনোযোগ দিতে হবে এবং খাদ্য নিরাপত্তার জন্য দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে হবে। আমাদের আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে এবং স্বনির্ভরতা অর্জন করতে হবে। আর সেজন্য টেকসই কৃষি প্রযুক্তি ও জলবায়ু-বান্ধব কৃষি উদ্ভাবন হতে পারে মূল চাবিকাঠি। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এশিয়াকে অবশ্যই একটি শক্তিশালী প্রযুক্তি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে হবে, যা হবে নবায়নমূলক, সমতাভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। আমাদের জ্ঞান ও তথ্য ভাগ করে নেয়া দরকার এবং প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ করা উচিত। ডিজিটাল সমাধানে সহযোগিতা আমাদের উন্নয়নের পথকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তিনি বলেন, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ ও যুবশক্তিকে এই সম্মিলিত প্রচেষ্টার কেন্দ্রে রাখতে হবে। আমাদের অবশ্যই একটি নতুন সভ্যতার ভিত্তি স্থাপন করতে হবেযে সমাজ নিজেই নিজেকে সংরক্ষণ করবে এবং নিজেকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলবে।
আমাদের এমন একটি সংস্কৃতি গড়তে হবে, যেখানে শূন্য-অপচয় নীতির জীবনধারা অনুসরণ করা হবে। ভোগবাদ সীমিত হবে কেবল জরুরি চাহিদার মধ্যে। আমাদের অর্থনীতিকে গড়ে তুলতে হবে সামাজিক ব্যবসা নীতির ওপর ভিত্তি করে, যা বর্তমানে ব্যবসার ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে উদ্ভাবন, লক্ষ্য ও দায়িত্ব একসঙ্গে মিলিত হয়। ইউনূস বলেন, যুবসমাজ ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বোয়াও ফোরাম ও এশিয়ার অন্যান্য উদ্যোগগুলোকে কাজ করতে হবে, যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এশিয়াকে আরও বাসযোগ্য করে তোলা যায়। তিনি বলেন, প্রতিটি তরুণকে তিনটি মূল লক্ষ্য অর্জনের দিকে মনোনিবেশ করতে হবেশূন্য নেট কার্বন নিঃসরণ, শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীকরণ, এবং সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে শূন্য বেকারত্ব। এটাই সেই যৌথ ভবিষ্যৎ, এই এশিয়ায় আমাদের সেটা গড়ে তুলতে হবে একসঙ্গে।
এদিকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গতকাল বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রক্রিয়ায় তার সমর্থন ও পরামর্শ চেয়েছেন। আমরা নতুনভাবে শুরু করতে চাই। আপনার সমর্থন ও পরামর্শ প্রয়োজন। আমাদের সামনে এখন একটি বড় সুযোগ রয়েছে, বান কি মুনের সঙ্গে বৈঠকে বলেন অধ্যাপক ইউনূস। বোয়াও ফোরাম এশিয়া বার্ষিক সম্মেলনের সাইডলাইনে বান কি মুন প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরও ভালো করবে। বাংলাদেশ এখন এমন একজন নেতা পেয়েছে, যিনি বিশ্বব্যাপী সম্মানিত। তিনি স্মরণ করেন, যখন তিনি নয়াদিল্লিতে কূটনীতিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন, তখন বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে ভূমিকা রেখেছিলেন। বাংলাদেশের সঙ্গে কোরিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠার চুক্তিতে স্বাক্ষর করার জন্য আমার কলমই ব্যবহার করা হয়েছিল, স্মৃতিচারণ করেন বান কি মুন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। তবে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিকভাবে আরও ভালো করতে পারতো। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, একসময় বাংলাদেশ ও কোরিয়া একই অবস্থানে ছিল, কিন্তু এখন কোরিয়া অনেক সামনে এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশের জনগণ অসাধারণ, কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্ব আমাদের ধ্বংস করেছে, বলেন তিনি।
বান কি মুন জানান, তিনি বাংলাদেশকে কোরিয়ার অন্যতম সম্মানিত ব্যবসায়ী ইয়াংওন করপোরেশনের চেয়ারম্যান কিহাক সুং-এর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। যিনি পরে চট্টগ্রামের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে তার ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন। প্রধান উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ সম্প্রতি কোরিয়ান ইপিজেডের (কেইপিজেড) দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করেছে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আরও কোরিয়ান বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক মাহমুদ বৈঠকে জানান, কিহাক সুং-এর নেতৃত্বে একটি ২৬ সদস্যের শক্তিশালী কোরিয়ান ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল আসন্ন ঢাকা বিজনেস সামিটে অংশ নেবে। প্রধান উপদেষ্টা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বান কি-মুনের সহযোগিতা কামনা করেন এবং তাকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
এছাড়াও বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মহাপরিচালক কু ডংই। গতকাল বৃহস্পতিবার বোয়াও ফোরাম এশিয়া বার্ষিক সম্মেলনের সাইডলাইনে এই বৈঠক হয়। বৈঠকে খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীল কৃষি এবং টেকসই উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশে কৃষি প্রযুক্তি ও খাদ্য উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। এফএও প্রধান বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নের প্রশংসা করেন এবং টেকসই কৃষি খাতে সংস্থাটির চলমান সহায়তার বিষয়ে আশ্বাস দেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। উভয় নেতা খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, কৃষকদের ক্ষমতায়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও এফএও-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণমূলক প্রকল্পে চীনের সহায়তা চায় এবং চীনের দেয়া ঋণের সুদের হার ৩ শতাংশ থেকে ১ থেকে ২ শতাংশ-এ কমানোর অনুরোধ জানায়। পাশাপাশি, বাংলাদেশ চীনা অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর জন্য প্রতিশ্রুতি ফি মওকুফের আহ্বান জানানো হয়। প্রধান উপদেষ্টা চীনা প্রস্তুতকারকদের বাংলাদেশে শিল্প স্থানান্তর সহজ করার জন্য বেইজিংয়ের সহায়তা চান, বিশেষ করে রেডিমেড পোশাক, ইলেকট্রিক যানবাহন, লাইট মেশিনারি, হাই-টেক ইলেকট্রনিক্স, চিপ উৎপাদন ও সৌর প্যানেল শিল্পে।
উপ-প্রধানমন্ত্রী ডিং শুয়েশিয়াং জানান, চীন ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা দেবে  যা বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় স্থান পাওয়ার দুই বছর পর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। চীনের নির্বাহী উপ-প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও দাশেরকান্দি পয়োনিষ্কাশন প্রকল্পে চীন অর্থায়ন করবে। তিনি বলেন, চীন গত বছর বাংলাদেশ থেকে আম আমদানির জন্য একটি প্রটোকল স্বাক্ষর করেছে। চীনা কর্মকর্তারা জানান, এই গ্রীষ্মেই বাংলাদেশ থেকে চীনে আম রফতানি শুরু হবে। এছাড়া, কাঁঠাল, পেয়ারাসহ বিভিন্ন জলজ পণ্য আমদানিরও পরিকল্পনা রয়েছে চীনের, যা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ভারসাম্য আনতে সহায়ক হবে। চীনা উপ-প্রধানমন্ত্রী জানান, চীন সরকার ও তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করবে। বর্তমানে কয়েক হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী চীনে অধ্যয়ন করছে। চীন বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জন্য চারটি মহাসাগরগামী জাহাজ ক্রয়ে অর্থায়ন করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। এছাড়া, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সংলাপকে উৎসাহিত করতে চীন সহযোগিতা করবে বলে জানান তিনি। বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, জ্বালানি, রেল ও সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা ফওজুল কবির খান, প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান এবং বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ